ইব্রাহিম আলম সবুজ রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সিঙ্গারডাবড়ী হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে কম মূল্যে হাট ইজারা দেওয়ায় সরকারের প্রায় ৩৮ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মুকুল চৌধুরী নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ইউএনও আল ইমরান সরকারের সভাপতিত্বে হাটটির ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সরকারিভাবে হাটটির দর ধরা হয়েছিল ৭২ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৪ টাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় আশানুরূপ দরপত্র না পাওয়ায় তৃতীয় দফায় তিন জন দরদাতা যথাক্রমে শাহাজাহান বকশি ৬০ লাখ, মোফাখখায়রুল ইসলাম স্বপন ৫৮ লাখ ও শাহ আলম রিপন ৪০ লাখ টাকা দর উল্লেখ করে আবেদন করেন। কিন্তু নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম হওয়ায় কাউকে ইজারা না দিয়ে খাস আদায়ের ঘোষণা দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল তৎকালীন ইউএনও জরুরি নোটিশের মাধ্যমে উন্মুক্ত ডাক স্থগিত করেন। এরপর তিনি বদলি হয়ে গেলে নবাগত ইউএনও তানজিলা তাসনিম ৭ মে উন্মুক্ত ডাকের আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের মুখে পূর্বের দরদাতারা অংশ নিতে না পারায় নামমাত্র ৩৯ লাখ ১০ হাজার টাকায় সাইদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নামে হাটটি ইজারা চূড়ান্ত করা হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দিলে সরকার ভ্যাট-ট্যাক্সসহ আরও অনেক বেশি রাজস্ব পেত।
তৃতীয় দফার সর্বোচ্চ দরদাতা মোফাখখায়রুল ইসলাম স্বপন বলেন, আমি নিয়ম মেনে দরপত্রে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে খোলা ডাকে আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। কম মূল্যে ইজারা দেওয়ায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে।
স্থানীয় ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা খলিলুর রহমান (রুকু) বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি হয়েছে। এছাড়া হাটে ইজারাদারের খাজনা আদায়ের তালিকা না থাকায় সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খাজনা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান রাজু জানান, অনিয়মের অভিযোগটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই খাস আদায়ের আওতায় উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি আইন ও নিয়মের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
ইব্রাহিম আলম সবুজ
রাজারহাট,কুড়িগ্রাম।
তাং ২৮/০৬/২০২৬ইং।
মোবাঃ ০১৭১২০০০৫৪০