সোহেল আহমেদ :
বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাস আর নেই।
মরহুমের মৃত্যু তে মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।
ভৈরবের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সাহসিক ভূমিকা
*স্বাধীনতার
ঘোষণা প্রচার:* ২৬শে মার্চ ভোরে ঢাকায় পাকবাহিনীর গণহত্যা ও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা পৌঁছানোর পর, ভৈরবে মাইকযোগে বীরত্বের সঙ্গে এই খবর প্রচারের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন ছাত্রনেতা ফখরুল আলম আক্কাস।
ছাত্র সংগ্রাম ও সংগঠন:*
১৯৭১ সালে তিনি ভৈরবের ঐতিহ্যবাহী
হাজী আসমত কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস)**
হিসেবে ছাত্রদের সংগঠিত করে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলেন।
ভারতে প্রশিক্ষণ ও অপারেশন:
তিনি ভারতের দেরাদুন থেকে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ কমান্ডার ফয়সাল আলমের নেতৃত্বে অস্ত্র ও হাতবোমাসহ দেশে ফিরে একাধিক গেরিলা অপারেশনে অংশ নেন।
রাজাকার নিমূল:
ভৈরবের কুখ্যাত রাজাকার মোমতাজ পাগলাকে গ্রেনেড হামলায় নিমূল করার গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন।
জনপ্রতিনিধি ও পৌর রূপান্তর
তিন মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব:*
তিনি প্রথম ১৯৯৮ সালে ভৈরব পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একটানা তিন মেয়াদে তিনি ভৈরব পৌরসভার প্রধান জনপ্রতিনিধি (চেয়ারম্যান/মেয়রের) দায়িত্ব পালন করেন।
ভৈরবের উন্নয়ন:
পৌরসভার দীর্ঘ দায়িত্ব পালনকালে রাস্তাঘাট নির্মাণ, শহরের আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন
রাজনৈতিক আদর্শ ও নীতি
ছাত্রলীগ থেকে রাজনৈতিক জীবন:
ষাটের দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি যুবলীগ ও মূলধারার রাজনীতির শীর্ষ সারিতে ভূমিকা রাখেন।
নীতি ও স্পষ্টবাদিতা:
স্থানীয়ভাবে তিনি একজন সৎ, প্রগতিশীল এবং নির্ভীক রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সততা ও নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার কারণে তিনি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেন।
ভৈরবের সার্বিক রূপান্তর ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাসের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।