শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
Headline :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবা গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা ফসলি জমি ভরাটে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধংসের পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ টেকনাফের বুমে বিউটি পার্লারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা! ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পরিদর্শন করেন অ্যাডি.আইজি মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিয়া টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধ চক্রের উত্থান,  অতিষ্ঠ জনজীবন ফেনীতে বাস চাপায় প্রাণ গেল মোটর সাইকেল আরোগী পিতা-পুত্রের গর্জনিয়ায় বেলতলি সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ: চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ, জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি।।

শিবচরে ইয়াবার ফাঁদে কিশোর প্রজন্ম-অন্ধকার পথে হারিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ, বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ

Reporter Name

 

মোঃ রিয়াজ রহমান
শিবচর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে কিশোরদের মধ্যে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলছে। শহরের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই এখন সহজে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। সকাল, বিকাল কিংবা গভীর রাত—যে কোনো সময়ই দেখা যায় খোলামেলা কেনাবেচা। সস্তা দামে সহজলভ্য হওয়ার সুযোগে উঠতি বয়সী কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা ব্যবসার বিপজ্জনক ‘চেইন’-এ।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ কিশোর প্রথমে শখের বসে বা বন্ধুর প্রভাবে ইয়াবা সেবন শুরু করে। পরে নেশার খরচ জোগাতে নিজেরাই হয়ে ওঠে খুচরা বিক্রেতা। নাম না প্রকাশের শর্তে এক কিশোর সেবনকারী জানায়, এক পিস ইয়াবার খুচরা দাম ২৫০–৩০০ টাকা, যেখানে ডিলারদের কাছ থেকে তারা পায় ২০০ টাকায়। দিনে ১০ পিস বিক্রি করলেই নেশার পুরো খরচ উঠে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, মূল ডিলাররা নিজেদের ঝুঁকি কমাতে কৌশলে কিশোরদের ব্যবহার করছে। হাতে ওয়াডের পুঁজি তুলে দিয়ে তাদের বানানো হচ্ছে ‘ডেলিভারি বয়’। দ্রুত টাকা রোজগারের প্রলোভনে অল্প বয়সেই তারা জড়িয়ে যাচ্ছে অপরাধের অন্ধকার জগতে।

স্থানীয়দের দাবি, শিবচরের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে এমন অসংখ্য কিশোরকে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করতে দেখা যায়। তবে ভয় ও প্রতিশোধের আশঙ্কায় কেউই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। মাঝে মাঝে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অনেকে অল্পদিনেই জামিনে বের হয়ে আবারও ফিরে আসে একই কাজে।

ইয়াবার নেশা ধরে রাখতে প্রতিদিন প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট অংকের টাকা। সেই অর্থ জোগাতে না পেরে কিশোরদের একাংশ জড়িয়ে পড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মতে, মোটরসাইকেলের ব্যাটারি-পার্টস, দোকান বা বাসার মোটর ও টিউবওয়েলের হাতল, নির্মাণাধীন ভবনের লোহা-টিপকলসহ ছোটখাটো সরঞ্জাম চুরির ঘটনা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। এতে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা।

কিশোরদের অবক্ষয় রোধে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহল সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, পরিবারে কঠোর নজরদারি, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং সমাজভিত্তিক সচেতনতা ছাড়া ইয়াবা নামের এই ‘নীরব মহামারি’ ঠেকানো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন,
আমরা নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।

স্থানীয়দের ভাষায়, শুধু পুলিশি অভিযান নয় পরিবার ও সমাজকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। না হলে থামানো যাবে না শিবচরের কিশোরদের ভবিষ্যৎ গ্রাস করা ইয়াবার ভয়াবহ বিস্তার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page