রিপোর্ট: শামীম আহমেদ | ভৈরব, কিশোরগঞ্জ
স্মৃতির আকাশে কিছু মানুষ নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করেন—সময়ের পরিক্রমায় তারা চোখের আড়ালে চলে গেলেও হৃদয়ের গভীর থেকে কখনও মুছে যান না। তেমনি ভৈরবের কমলপুরের এক উজ্জ্বল নাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও ধর্মানুরাগী ব্যক্তিত্ব মরহুম হাজী আবদুল জাহের মিয়া। তাঁর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দোয়ার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মরহুম হাজী আবদুল জাহের মিয়া ১৯৭৯ সালের ১১ এপ্রিল, বুধবার, নিজ বাড়ি ভৈরবে ইন্তেকাল করেন। জীবদ্দশায় তিনি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীই ছিলেন না, ছিলেন সমাজকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ একজন মানবদরদী মানুষ। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সততা, পরোপকারিতা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ভৈরববাসীর হৃদয়ে আজও অম্লান হয়ে আছেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ভৈরব এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে এতিম শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানানো হয়—
“হে আল্লাহ, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় দাদা হাজী আবদুল জাহের মিয়াকে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।”
উল্লেখ্য, এ আবেগঘন স্মৃতিচারণমূলক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, জাতীয় দৈনিক লাল সবুজের দেশ ও জাতীয় পাক্ষিক অপরাধ জগত-এর প্রকাশক ও সম্পাদক, সমাজসেবামূলক নানা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব সোহেল আহমেদ। তিনি মরহুম হাজী জাহের মিয়ার পুত্রের ঘরের নাতি এবং ভৈরবের সুপরিচিত দানবীয় পরিবারের একজন কৃতি সন্তান।
তিনি তাঁর পোস্টে দাদার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন,
“মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার সৎকর্ম ও দোয়ার সুবাস থেকে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম। দাদার আদর্শ, ধর্মপ্রাণতা ও সমাজসেবার উত্তরাধিকার আমাদের পথ দেখায়।”
স্থানীয়দের মতে, হাজী আবদুল জাহের মিয়া ছিলেন এমন এক মহৎ প্রাণ, যাঁর ছায়ায় অসংখ্য মানুষ আশ্রয়, সহায়তা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তাঁর জীবন ছিল যেন এক ফলবান বৃক্ষ—যে বৃক্ষ নিজে নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছে উপকারের ছায়া ও মানবতার ফল।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ভৈরববাসী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেই মহৎ মানুষটিকে, যাঁর অবদান ও স্মৃতি এখনও কমলপুরের বাতাসে নীরবে কথা বলে।