মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
Headline :
উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধর্ষণচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারের টেকনাফের জনপ্রিয় কাউন্সিলর একরামুল হ/ত্যা: শেখ হাসিনা-বেনজীর,মেজর রুহুল আমিনসহ ৮ জনের বি’রুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা টেনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ: তহসিলদারের ছত্রছায়ায় কর্মচারী পরিচয়ে সক্রিয় কালা আবচার সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত ল্যান্ড ক্রুজারে ২৮ হাজার ইয়াবা, সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের কিট প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা জুলাই গণহত্যার কুশীলব এসপি আলমগীর: তদন্তে বরখাস্তের পরও কীভাবে বহাল? বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাস আর নেই এক দলিলে দ্বৈত রূপ: মোহাম্মদপুরে ভূমি নথির ‘জাদুকরী’ জালিয়াতি; নেপথ্যে কারা? বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ: ত্রাণ বিতরণে পুলিশ সুপার, পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি ছাগলনাইয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার নেপথ্যের হোতাদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম

এক দলিলে দ্বৈত রূপ: মোহাম্মদপুরে ভূমি নথির ‘জাদুকরী’ জালিয়াতি; নেপথ্যে কারা?

Reporter Name

 

​অনুসন্ধান ডেস্ক :

শাহীন আলম আশিক :

​ঢাকার মোহাম্মদপুরে ভূমি মালিকানা নিয়ে এক অদ্ভুত ও ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে, যা কেবল নথিপত্রের অসংগতি নয়, বরং পরিকল্পিত অপরাধের এক অনন্য নজির। একই দলিল নম্বর (১৪৩৩) এবং একই তারিখের (০৫/০৩/২০০৮) বিপরীতে একটি ‘হেবা’ এবং অন্যটি ‘সাব-কবলা’ দলিলের অস্তিত্ব এখন ভূমি প্রশাসনের অন্দরমহলে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এই কারসাজি কি কেবল clerical error, নাকি সরকারি নথিপত্রকে হাতের মোয়া বানিয়ে কোনো অদৃশ্য সিন্ডিকেটের ভূমি দখলের মহোৎসব?

*​জালিয়াতির অংকশাস্ত্র: যখন একটি দলিলে দুই স্বত্ত্বা*

​২০০৮ সালের ৫ মার্চ সম্পাদিত ১৪৩৩ নং দলিলটি রহস্যময়ভাবে দুই ধরণের পরিচয় ধারণ করছে। একদিকে আদালতে বিচারাধীন একটি মামলায় এটি কুতুবউদ্দিনের নামে ‘হেবা’ দলিল হিসেবে প্রদর্শিত। অন্যদিকে, একই নম্বর ও তারিখ ব্যবহার করে গিয়াস উদ্দিন ও রেজাউল করিমের পক্ষ দাবি করছে এটি তাদের ‘সাব-কবলা’। একটি দলিলে দুই রূপ ধারণ করার এই ঘটনা কি বালাম বই টেম্পারিং বা নথিপত্র জালিয়াতির কোনো সুপরিকল্পিত মডেল? আমাদের অনুসন্ধান বলছে, এই অসংগতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ঢাকার ভূমির মালিকানা নিয়ে প্রচলিত এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

*​অদৃশ্য নোটিশ ও নামজারির ‘জাদুকরী’ গতি*

​সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো নামজারি প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা। যেখানে জোবায়ের হোসেন গত দেড় দশক ধরে ওই জমিতে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে আইনগতভাবে ভোগদখলে আছেন, সেখানে তাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই কীভাবে নামজারি সম্পন্ন হলো? নামজারি প্রক্রিয়ার আইনি ধাপ হিসেবে ‘নোটিশ সার্ভ’ করার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা কি এই বিশেষ ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে? আইনি বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগী মহলের মতে, প্রকৃত মালিককে অন্ধকারে রেখে নামজারি সম্পন্ন করার এই প্রক্রিয়া স্পষ্টতই একতরফা ও অপরাধমূলক।

*​উন্নয়নের দোহাই নাকি দখলের মহোৎসব?*

​যদি ১৪৩৩ নং সাব-কবলা দলিলটিই আসল হতো, তবে জোবায়ের হোসেনের ৮ তলা ভবন নির্মাণের সময় এই তথাকথিত মালিকরা কোথায় ছিলেন? কেন তারা নির্মাণের সময় বাধা দেননি? ভবন নির্মাণের পর হঠাৎ করে এই দলিল প্রদর্শনের মাধ্যমে নামজারি সম্পন্ন করাটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও দখলবাজির চূড়ান্ত নীল নকশা।

*​প্রশাসনের ভূমিকা ও আমাদের প্রত্যাশা*

​আমরা বর্তমান দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখতে চাই। এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা অদৃশ্য সিন্ডিকেটকে খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি এবং রাজস্ব সার্কেল কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোরালো আহ্বান—বালাম বইয়ের অসংগতিগুলো খতিয়ে দেখা হোক। কোন দলিলে কার স্বাক্ষর রয়েছে, এবং কেন নোটিশ ছাড়াই নামজারি সম্পন্ন হলো—এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।

*​শেষ কথা*

​ভূমি মালিকানা কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি হরণের হাতিয়ার হতে পারে না। এই জালিয়াতির সাথে জড়িত রথী-মহারথীদের চিহ্নিত করা না হলে ঢাকার বুকে ভূমির নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তথ্যের প্রতিটি স্তর উন্মোচন করে আমরা এই ভূমি জালিয়াতির কুশীলবদের মুখোশ খুলে দিতে বদ্ধপরিকর।

​জনস্বার্থে এবং প্রকৃত মালিকের অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠায় আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—সময় এসেছে এই অশুভ চক্রের যবনিকা টানার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page