ভৈরব সংবাদ দাতা :
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। খুন, ডাকাতি, দমনপীড়ন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধের আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সর্বদা তৎপর। এরই প্রেক্ষিতে সিপিসি-২, র্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্প এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ২১ জুন ২০২৬খ্রিঃ দুপুর অনুমান ১৪১০ ঘটিকায় অভিযান পরিচালনা করে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার নাটালের মোড় থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩ টি হত্যা, দস্যুতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলার আসামী ইমন (২৫), পিতা-মাসুদ, সাং-আড়াই ব্যাপারীবাড়ি, থানা-ভৈরব, জেলা-কিশোরগঞ্জ’কে গ্রেফতার করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি কিশোরগঞ্জ জেলার সদর, কুলিয়ারচর ও ভৈরব থানা এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধ চক্রের মূল হোতা। সে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় দস্যুতা, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। ধৃত আসামি ভৈরব থানার মামলা নং-২২(২)২৫, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৮৫/৩৮০/৪২৭/১১৪/৩৪ পেনাল কোড এর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ ২০২৬ খ্রি. গভীর রাতে কুলিয়ারচর থানাধীন দাড়িয়াকান্দি টু কুলিয়ারচর বাজার সড়কের রেল ক্রসিংয়ে এই চক্রটি সুকৌশলে রেল গেট (ব্যারিয়ার) ফেলে একটি মাইক্রোবাসের গতি রোধ করে। পরবর্তীতে ধৃত আসামিসহ তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং যাত্রীদের আঘাত করে নগদ টাকা ও মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগী যাত্রী মোঃ শরিফ খাঁন (২৮), পিতা-শাহ আলম খান, সাং-শান্তিপুর, থানা-অষ্টগ্রাম, জেলা-কিশোরগঞ্জ বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৫, তারিখ: ১৮ মার্চ ২০২৬ খ্রি., ধারা-৩৯৪ পেনাল কোড। সংঘটিত দস্যুতার ঘটনার পর থেকে সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে পলাতক ছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জনস্বার্থে র্যাব-১৪-এর এরূপ অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।