— শাহিন আলম আশিক
বিশেষ প্রতিনিধি, অপরাধ জগত।
অন্ধকারের শক্তি সত্যকে সাময়িকভাবে আড়াল করতে পারলেও, শেষ পর্যন্ত সত্যই সূর্যের মতো দীপ্তি ছড়িয়ে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম মেধাবী, সাহসী এবং নীতিবান কর্মকর্তা রেজাউল করিম মল্লিকের আজকের পদোন্নতি সেই চিরায়ত সত্যেরই প্রতিফলন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ষড়যন্ত্রের জাল আর অপপ্রচারের অন্ধকার ডিঙিয়ে যোগ্যতার এই স্বীকৃতি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য বিজয়।
কেন রেজাউল করিম মল্লিক এক অপরাজেয় নাম?
১. হানি ট্র্যাপ সিন্ডিকেট ও সাহসের প্রতীক: ডিবি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে তেজস্বিতা দেখিয়েছেন, তা সমসাময়িক পুলিশিং-এ এক বিরল দৃষ্টান্ত। সমাজের তথাকথিত প্রভাবশালী ও রথী-মহারথীদের জিম্মি করে রাখা ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই আপসহীন অবস্থানই তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছিল, যদিও স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মূর্ত আতঙ্ক।
২. ডিবির সংস্কার ও ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার: ডিবি থেকে বিতর্কিত ‘ভাতের হোটেল’ সংস্কৃতি চিরতরে বিদায় করে তিনি সংস্থাটিকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার গোয়েন্দা ইউনিটে রূপান্তর করেছিলেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী কঠিন সময়ে যখন পুলিশের ভাবমূর্তি তলানিতে ঠেকেছিল, তখন তাঁর সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপগুলো বাহিনীর হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে।
৩. বঞ্চনা জয় করা এক যোদ্ধার গল্প: ১৭তম বিসিএস-এর এই চৌকস কর্মকর্তা বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পদোন্নতি বঞ্চিত থাকা এবং মিথ্যা অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ার পরও তিনি দমে যাননি। ৪ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সগৌরবে ফিরে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন, ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে কিন্তু অবদমিত রাখা যায় না।
ষড়যন্ত্রের জাল ও বর্তমান বাস্তবতা:
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা রেঞ্জে বদলি বাণিজ্য নিয়ে যেসব সস্তা ও ভিত্তিহীন গল্প ছড়ানো হয়েছিল, তা ছিল স্রেফ চরিত্রহননের অপচেষ্টা। ওসি পদায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জানা সত্ত্বেও যারা তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল, আজকের এই পদোন্নতি তাদের মুখে এক সজোরে চপেটাঘাত। প্রোপাগান্ডা দিয়ে যে মেধা আর দেশপ্রেমকে ঢাকা যায় না, আজ তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
সারকথা:
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের আজকের এই পদোন্নতি বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় এক নতুন গতির সঞ্চার করবে। দেশ যখন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর, তখন তাঁর মতো পরীক্ষিত, দক্ষ এবং সৎ অফিসারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থিতি অপরিহার্য ছিল। ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে, জয় হয়েছে কর্মনিষ্ঠা ও সত্যের।
আমরা বিশ্বাস করি, নতুন এই উচ্চতায় থেকে তিনি তাঁর পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।
অভিনন্দন, ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক! সত্যের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক।