কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমাইলের দায়ের করা ভুয়া মানহানি মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন মহল, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা এ মামলাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত শাহপরীর দ্বীপ এলাকার ইসমাইল মেম্বারের বিয়াই শীর্ষ মানবপাচারকারী পোয়া মাঝি ও আবু তাহেরের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনস্বার্থে বক্তব্য দেওয়ার জেরে
শীর্ষ মানবপাচারকারী পোয়া মাঝি ও অন্যান্য মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ইসমাইল মেম্বার
টেকনাফ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি, সমাজসেবক ও প্রতিবাদী নেতা আবদুল জব্বার এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক নুরুল কায়সার জুয়েলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করে ।
স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, শাহপরীর দ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসা সাবেক মেম্বার ইসমাইল ও তার ভাইয়েরা এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী পরিবার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্যবসা-বাণিজ্য ধবংস ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিভিন্ন সময় প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে এবং অনেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন।
টেকনাফ ও কক্সবাজারের সাংবাদিক মহলের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করে সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করা যাবে না। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সমাজের অসঙ্গতি ও অপরাধ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই মামলাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তারা।
সাংবাদিক ও সচেতন মহল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে আইনানুগ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ আরও জোরালো করা হবে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইসমাইল বক্তব্য দেয়নি।