টেকনাফ প্রতিনিধি:
টেকনাফে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের ত্যাগী নেতা আবদুল জব্বারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বহু বছর ধরে জুলুম-নির্যাতন, হামলা-মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েও তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর হয়রানির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কথা বলার কারণে আবদুল জব্বার বিভিন্ন সময় চাপে ছিলেন। বিশেষ করে শাহপরীর দ্বীপ এলাকার সমালোচিত সাবেক মেম্বার মো. ইসমাইলের বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষদের হয়রানি ও নানা অভিযোগের প্রতিবাদ করায় তাকে ষড়যন্ত্র মূলকভাবে টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা সাংগঠনিক শুনানি ছাড়াই আবদুল জব্বারকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় টেকনাফের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, “আবদুল জব্বার দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ আলহাজ্ব শাহাজান চৌধুরীর হাতকে শক্তিশালী করতে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। দলের দুর্দিনে তিনি মাঠে ছিলেন। এমপি আলহাজ্ব শাহাজান চৌধুরীর আস্থাভাজন সৈনিক ও একজন ত্যাগী নেতাকে এভাবে কোনো নোটিশ ছাড়া বহিষ্কার করা দুঃখজনক।”
তারা আরও বলেন, “যিনি সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, তাকেই যদি শাস্তি পেতে হয়, তাহলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে নেতিবাচক বার্তা যাবে।”
এদিকে আবদুল জব্বারের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দলে পুনর্বহালের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সাংগঠনিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করলে দলীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সকল পক্ষের মতামত নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।