সোহেল আহমেদ :
জাতীয়তাবাদীর আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি”—এই বক্তব্যটি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের ব্যক্তিগত আদর্শিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, কিছু মানুষ বক্তব্যটির প্রকৃত অর্থ অনুধাবন না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, বিরূপ ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন।
প্রথমেই বুঝতে হবে— “জাতীয়তাবাদ” এবং “জাতীয়তাবাদী দল” এক বিষয় নয়। জাতীয়তাবাদ একটি আদর্শ, একটি দেশপ্রেমিক চেতনা; আর রাজনৈতিক দল হলো সেই আদর্শকে ধারণকারী একটি সংগঠন। ভাষাগত ও ভাবগত এই পার্থক্য না বুঝে একজন সম্মানিত কর্মকর্তাকে “জাতীয়তাবাদী পুলিশ” বলে কটাক্ষ করা কোনো সুস্থ বিবেকের পরিচয় হতে পারে না।
গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনা সভায়, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সেখানে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক তার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, কষ্ট ও অভিজ্ঞতার কিছু আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা ছিল না; বরং একজন মানুষের হৃদয়ে জমে থাকা না বলা বেদনার বহিঃপ্রকাশ ছিল।
‘জাতীয়তাবাদ’ একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক দর্শন ও চেতনা, যা দেশপ্রেমের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
অন্যদিকে, কোনো নির্দিষ্ট ‘রাজনৈতিক দল’
সেই আদর্শের একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ মাত্র।
একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে দেশপ্রেম বা জাতীয়তাবাদী চেতনা থাকা ইতিবাচক, কারণ এটি দেশের স্বার্থ রক্ষায় তাকে উদ্বুদ্ধ করে। শব্দগত এই সূক্ষ্ম পার্থক্য না বুঝে ঢালাওভাবে সমালোচনা করা অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি তৈরি করে।
পেশাগত বঞ্চনা ও মানবিক দিক:
দীর্ঘ ১৭ বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকা বা পেশাগত বৈষম্যের শিকার হওয়া যেকোনো মানুষের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। আপনি যেভাবে তার দীর্ঘদিনের কষ্ট এবং অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, তা থেকে বোঝা যায় যে তার বক্তব্যটি ছিল মূলত দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ।
মানসিক চাপ: বছরের পর বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের ডিপার্টমেন্ট ও মানসিক চাপ একজন কর্মকর্তার মনোবল ভেঙে দিয়েছে তারপরও পেশা দায়িত্বে কখনো অবহেলা করেন নি রেজাউল করিম মল্লিক।
ছাত্রজীবনে কোনো আদর্শের অনুসারী হওয়া বা ব্যক্তিগত জীবনে কোনো দর্শন লালন করা কোনো অপরাধ নয়, যতক্ষণ না সেটি পেশাগত দায়িত্বে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়বদ্ধতা:
বর্তমান যুগে যেকোনো বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট ছাড়া (Out of context) প্রচার করার একটি প্রবণতা দেখা যায়।
মানুষের আবেগকে বিদ্রূপ না করে বরং সেই বক্তব্যের পেছনের কারণ বা ইতিহাস বোঝা জরুরি।
না বুঝে করা একটি মন্তব্য একজন ব্যক্তির সারাজীবনের ত্যাগকে ম্লান করে দিতে পারে।
কোনো ব্যক্তির বক্তব্য মূল্যায়ন করার সময় তার প্রেক্ষাপট, বিগত জীবনের সংগ্রাম এবং শব্দের সঠিক অর্থ বোঝা সুস্থ ও সচেতন নাগরিকের লক্ষণ।