মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
Headline :
উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধর্ষণচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারের টেকনাফের জনপ্রিয় কাউন্সিলর একরামুল হ/ত্যা: শেখ হাসিনা-বেনজীর,মেজর রুহুল আমিনসহ ৮ জনের বি’রুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা টেনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ: তহসিলদারের ছত্রছায়ায় কর্মচারী পরিচয়ে সক্রিয় কালা আবচার সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত ল্যান্ড ক্রুজারে ২৮ হাজার ইয়াবা, সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের কিট প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা জুলাই গণহত্যার কুশীলব এসপি আলমগীর: তদন্তে বরখাস্তের পরও কীভাবে বহাল? বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাস আর নেই এক দলিলে দ্বৈত রূপ: মোহাম্মদপুরে ভূমি নথির ‘জাদুকরী’ জালিয়াতি; নেপথ্যে কারা? বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ: ত্রাণ বিতরণে পুলিশ সুপার, পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি ছাগলনাইয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার নেপথ্যের হোতাদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম

ভৈরবে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আতাউল্লাহ মিয়ার ইন্তেকাল কমলপুরে শোকের ছায়া, জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

Reporter Name

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | ভৈরব
জীবনের ব্যস্ত পথচলা থামিয়ে চিরবিদায় নিলেন ভৈরব পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কমলপুর গাছতলাঘাট কাজী বাড়ির কৃতী সন্তান কাজী মোঃ আতাউল্লাহ মিয়া। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কমলপুরসহ পুরো ভৈরবে নেমে আসে শোকের ছায়া। যেন পরিচিত আকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হঠাৎ নিভে গেছে—কিন্তু রেখে গেছে আলো ছড়ানো অসংখ্য স্মৃতি, মানবিকতা আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার অমলিন দৃষ্টান্ত।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতি, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা কাজী আতাউল্লাহ মিয়া ছিলেন জনমানুষের একজন আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ছিলেন সবার কাছে একজন শান্ত, সজ্জন, পরোপকারী ও গ্রহণযোগ্য মানুষ। মতের ভিন্নতা থাকলেও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় তার সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, বিনয়ী মনোভাব এবং সমাজকল্যাণে নিবেদিত ভূমিকা তাকে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ—যিনি ক্ষমতার নয়, মানুষের হৃদয়ের রাজনীতি করতেন। এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক বিরোধ মীমাংসা, মসজিদ-মাদ্রাসা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং তরুণ সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তার মৃত্যুতে ভৈরব হারালো এক অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বকে।
বৃহস্পতিবার বাদ আসর কমলপুর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে ভিড় করেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষ। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে—তিনি শুধু একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন না, ছিলেন পুরো এলাকার একজন আপনজন।
জানাজা শেষে তাকে ভৈরব পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ভৈরবের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোক প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন—
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, ভৈরব উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আলহাজ্ব আল মামুন, ভৈরব উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল হেকিম রায়হান, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভৈরব প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোস্তাফিজ আমিন,ভৈরব পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র বল আমিন, ভৈরব রিপোর্টার্স ক্লাব ও ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বাংলা টিভির ভৈরব প্রতিনিধি এম আর সোহেল, ভৈরব উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক ছাবির উদ্দিন রাজু এবং ভৈরব পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি সাংবাদিক ও অভিনেতা শামীম আহমেদ, সাপ্তাহিক সংবাদ পাতার নির্বাহী সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ প্রমূখ।
এদিকে নামাজে জানাজায় উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মরহুমের বড় ছেলে সবুজ মিয়া আবেগঘন বক্তব্যে তার পিতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে বিনয়ের সঙ্গে মরহুমের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মৃত্যু কখনো কেবল একজন মানুষের প্রস্থান নয়; কখনো কখনো তা একটি যুগের অবসান, একটি ছায়াদানকারী বৃক্ষের পতন, একটি নির্ভরতার জায়গা হারিয়ে ফেলা। কাজী আতাউল্লাহ মিয়া তার কর্ম, সততা, সৌজন্যবোধ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে ভৈরববাসীর হৃদয়ে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আল্লাহ মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন—আমিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page