দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে রুটি, কলা ও ডিম বিতরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই ধরনের কর্মসূচি শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ায় এবং তাদের শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বাস্তব চিত্রের একটি উদ্বেগজনক দিক সামনে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে বিতরণকৃত রুটি পঁচা বা অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে যে কিছু বিদ্যালয়ে সরবরাহকৃত রুটিতে ফাঙ্গাস, দুর্গন্ধ কিংবা অস্বাভাবিক নরম-চটচটে ভাব রয়েছে যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়ার উদ্যোগ যদি নিম্নমানের সরবরাহের কারণে ব্যাহত হয় তবে এর উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় সঠিক সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বিতরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে এমন সমস্যা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের অভাব, দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ এবং তদারকির ঘাটতি এ ধরনের নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও সচেতন থাকতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই নষ্ট বা অস্বাস্থ্যকর খাবার শিশুদের মধ্যে বিতরণ না হয়।
শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সামান্য অবহেলাও যেন বড় বিপদের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ফারিয়া ইসলাম
শিক্ষার্থী, ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজ।