সোহেল আহমেদ ‘
(১০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা)
দেশের উদীয়মান পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে অপ-সংস্কৃতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপ-সাংবাদিকতার মতো নেতিবাচক উপাদানগুলো দূর করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পর্যটন খাতকে কেবল বিনোদন নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তারা নিরাপত্তা ও তথ্য প্রবাহের স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এক বিশেষ নিবন্ধে অতিরিক্ত ডিআইজি ও পর্যটন বিশ্লেষক মো. আপেল মাহমুদ পর্যটন খাতের বর্তমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য বিশ্বমানের হলেও কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জের কারণে এই শিল্প পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে না।
চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রে ‘অপ’ তত্ত্ব:
বিশ্লেষণে দেখা যায়, পর্যটন খাতের বিকাশে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে পাঁচটি ‘অপ’ উপাদান: অপ-সংস্কৃতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপ-সাংবাদিকতা, অপরাধমূলক প্রবণতা এবং অপপ্রচার। স্থানীয় সংস্কৃতির পরিবর্তে কৃত্রিমতার আধিক্য এবং পর্যটকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
নিরাপত্তা ও সিন্ডিকেট মুক্ত ব্যবস্থাপনা:
প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যটন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুষ্কৃতিকারীদের সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একটি নিরাপদ পরিবেশই পর্যটনবান্ধব সমাজ গড়ে তোলার প্রধান শর্ত।
তাত্ত্বিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা:
পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, ‘3S’ থিওরি অর্থাৎ সমুদ্র (Sea), আকাশ (Sky) এবং বালিয়াড়ি (Sand) রক্ষা করা সমুদ্রভিত্তিক পর্যটনের প্রাণ। সৈকতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি পর্যটকদের বিমুখ করছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ‘C Theory’ (Communication)-এর দুর্বলতা এবং যানজট পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অপ-সাংবাদিকতা ও গুজবের প্রভাব:
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভিত্তিহীন তথ্য ও অপ-সাংবাদিকতা পর্যটন শিল্পের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল ভিউ বাড়ানোর লক্ষ্যে ছড়ানো গুজব বা অতিরঞ্জিত সংবাদ পর্যটকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে, যা বিনিয়োগকারীদেরও নিরুৎসাহিত করছে।
উত্তরণের পথ:
টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সেবার মান বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।