ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেরি হওয়ায় নারী গ্রাহকের স্বামীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) নামে এনজিও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে ছাগলনাইয়া পৌর এলাকার বাঁশপাড়া নদীকূলস্থ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিজ এনজিও থেকে ২০২৫ সালে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন সাহেদা আক্তার নামে এক নারী গ্রাহক। প্রতি মাসে ঋণের টাকা পরিশোধ করলেও গত তিন মাস অর্থ সংকটে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মঙ্গলবার বিজ এর মাঠ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান রিফাতসহ একাধিক কর্মকর্তা কিস্তির টাকার জন্য তারা বাড়ীতে যান।
কিস্তি পরিশোধে সময় চাওয়াতে ফিল্ড অফিসার রিফাত প্রথমে সাহেদার স্বামী আবুল কালামকে গালমন্দ করে। তিনি জানান, বিজের কর্মকর্তারা বাড়িতে এসে আমার স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সাথে অশোভন আচরণ করে এবং আমার স্ত্রীর গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন চিনিয়ে নিয়ে যায়।
এসময় তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হলে তারা লাঠি দ্বারা আমার হাতে, পায়ে, বুকে, পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। এ ঘটনায় সাহেদা আক্তার বাদি হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিজর ফিল্ড অফিসার মাহফুজুর রহমান রিফাত জানান, আবুল কালামের স্ত্রী সাহেদা আক্তার বিজ থেকে গত বছর ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তী চার কিস্তির ২৪ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় বার বার কিস্তির টাকার জন্য তার বাড়ীতে গেলে টাকা পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করার পাশাপাশি আমাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বকেয়া কিস্তির টাকা আদায় করতে আমিসহ মোট চারজন ফিল্ড অফিসার গ্রাহকের বাড়ীতে গেলে আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে আবুল কালাম বাসার ছাদের উপর থেকে আমাদের শরীরে পানি মিশ্রিত মরিচের গুঁড়ো নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে লাঠি দ্বারা আমাদের হামলার চেষ্টা করলে আমরা প্রতিহত করি। তবে আবুল কালামকে মারধরের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন রিফাত।
এ বিষয়ে বিজ’র ছাগলনাইয়া উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ রুবেল মিয়া জানান, গ্রাহক সাহেদা আক্তারের স্বামীকে মারধরের অভিযোগ মিথ্যা। আবুল কালাম ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার আমাদের কর্মীদের সাথে অশোভন আচরণ করেছিলো। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতেই তিনি ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন। এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে ছাগলনাইয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাহেদা আক্তার নামে এক নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সঠিক তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কাজ করছে।