মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline :
উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধর্ষণচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারের টেকনাফের জনপ্রিয় কাউন্সিলর একরামুল হ/ত্যা: শেখ হাসিনা-বেনজীর,মেজর রুহুল আমিনসহ ৮ জনের বি’রুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা টেনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ: তহসিলদারের ছত্রছায়ায় কর্মচারী পরিচয়ে সক্রিয় কালা আবচার সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত ল্যান্ড ক্রুজারে ২৮ হাজার ইয়াবা, সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের কিট প্যারেড, কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভা জুলাই গণহত্যার কুশীলব এসপি আলমগীর: তদন্তে বরখাস্তের পরও কীভাবে বহাল? বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভৈরব পৌরসভার সাবেক তিনবারের মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাস আর নেই এক দলিলে দ্বৈত রূপ: মোহাম্মদপুরে ভূমি নথির ‘জাদুকরী’ জালিয়াতি; নেপথ্যে কারা? বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ: ত্রাণ বিতরণে পুলিশ সুপার, পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি ছাগলনাইয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার নেপথ্যের হোতাদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম

বিশ্ব আজ সন্ত্রাসী নব্য ফেরাউন ট্রাম্প এর হাতে জিম্মি। ধ্বংসের দারপ্রান্তে আমেরিকা ইসরাইল।

Reporter Name
Oplus_16908288

 

হাজী সোহেল আহমেদ :
(বাংলাদেশ)

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে কঠোর সমালোচনা ও ঘৃনা জানাচ্ছে। খোদ আমেরিকাতে লক্ষ লক্ষ শান্তিকামি জনগন রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা দের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে অনেকেই এ যুদ্ধের বিরুদ্ধে যাওয়ায় দন্ড দেওয়া হচ্ছে। এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব।

হরমুজ প্রণালীর সংকট, নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংসতা এবং মুসলিম দেশগুলোর অনৈক্য—তা বর্তমান ভূ-রাজনীতির এক রূঢ় বাস্তবতা।

হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক হুমকি:

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান ধমনী। ইরান যদি বাধ্য হয়ে এই পথ বন্ধ করে দেয় বা জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধস নামবে তা কল্পনাতীত।

জ্বালানি সংকট:

তেলের দাম আকাশচুম্বী হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়বে।

উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত:

পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে, যা আপনি সঠিকভাবেই চিহ্নিত করেছেন।

নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংসতা:

ইতিহাসের কালো অধ্যায়
ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা বা ফিলিস্তিনের শিশুদের ওপর যে বর্বরতা চলছে, তা কোনো যুদ্ধ নয় বরং এটি সরাসরি
মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী নিরপরাধ নারী ও শিশুদের হত্যা করা মহাপাপ। ইতিহাসের পাতায় এই বর্বরোচিত ঘটনাগুলো চিরকাল কালো অক্ষরে লেখা থাকবে এবং সচেতন বিশ্ব কখনোই একে ক্ষমা করবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের অনৈক্য ও বিদেশি ঘাঁটির প্রভাব:

আপনি সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের নেতৃত্বের যে সমালোচনা করেছেন, তা মুসলিম বিশ্বের অনেক সাধারণ মানুষের মনের কথা।

বিভেদ ও তাবেদারি:

মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্য না থাকায় বাইরের শক্তিগুলো সুযোগ নিচ্ছে। নিজেদের মাটিতে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন অনেক ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করে এবং প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে।
ইরানের অবস্থান:
ইরান কোণঠাসা হয়ে চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়পছে যা পুরো অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক।

মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ডাক
আপনার “আসুন আমরা মুসলমান জাতি এক হই” এই আহ্বানটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ইতিহাসের বড় বড় সংকটগুলো তখনই সমাধান হয়েছে যখন মুসলমানরা নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হয়েছে।

আল -কুরআনের বাণী:
“আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” (সূরা আল-ইমরান: ১০৩)

উপসংহার:
বর্তমান বিশ্ব এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যকে যে আগুনের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তার প্রভাব কেবল মুসলমানরাই নয়, পুরো বিশ্ববাসী ভোগ করবে।
, আল্লাহর পরিকল্পনা ও ইনসাফই শেষ কথা।
জুলুম যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তার পতনও অনিবার্য হয়।

রাজনীতিবিদদের কর্মকাণ্ড যখন সাধারণ মানুষের জীবন বা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে, তখন এ ধরনের কঠোর সমালোচনা আসা স্বাভাবিক। তবে এই পরিস্থিতিকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করতে চাইলে কয়েকটি দিক বিবেচনা করা যেতে পারে:

বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট

ক্ষমতার ভারসাম্য:
বিশ্ব রাজনীতি বর্তমানে অনেকটা মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন জাতীয়তাবাদী ও কট্টরপন্থী নেতাদের উত্থান ঘটছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন জাতিসংঘ) কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত সারা বিশ্বের অর্থনীতি, জলবায়ু এবং নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ফলে তাদের যেকোনো পদক্ষেপ অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে জুলুম বা চাপ হিসেবে অনুভূত হতে পারে।

মতাদর্শগত সংঘাত:

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে আসা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে, যা অনেকের দৃষ্টিতে বৈশ্বিক সংহতির পরিপন্থী।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি যুগেই প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ে চরম মতভেদ ছিল। কেউ কাউকে ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ দেখেছেন ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে। বর্তমানের এই অস্থির সময়ে বিশ্বের সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শান্তি এবং মানবাধিকার রক্ষা করা।
ইসরায়েল বিশেষ করে শিশু ও নারীদের ওপর চালানো সহিংসতার বর্ণনা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে ব্যথিত করে।

গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়া

গাজা/ওয়াশিংটন:

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ড এবং পশ্চিম তীরে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও তাতে আমেরিকার অকুণ্ঠ সমর্থনের ফলে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতি এখন ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা একে “জাতিগত নিধন”
(Ethnic Cleansing) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শিশু ওবেসামরিক নাগরিকদের ওপর নৃশংসতা:

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্ট (জানুয়ারি ২০২৬) অনুযায়ী, গাজায় নিহতদের এক বিশাল অংশই শিশু। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল বোমা হামলায় নয়, বরং ইসরায়েলি অবরোধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও চিকিৎসার অভাবে কয়েক হাজর শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুদের এই মৃত্যুকে মানবাধিকার কর্মীরা “পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের (OHCHR) মার্চ ২০২৬-এর প্রতিবেদনে ভয়াবহ কিছু অভিযোগ উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ এবং শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে চালানো যৌন সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়:

ফিলিস্তিনি নারীদের দিগম্বর করে জনসমক্ষে হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছে।

বন্দিশালায় নারী ও পুরুষদের ওপর অমানবিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে।
এসব ঘটনার ছবি বা ভিডিও ধারণ করে অপদস্ত করার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিলেছে।

ইরানের ওপর হামলা ও আঞ্চলিক অস্থিরতা
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলা ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে আঘাত হেনেছে। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও শিশু হতাহত হয়েছে, যা নিয়ে তেহরানসহ বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে।
ইরানের নেতৃবৃন্দ একে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা “গণহত্যা” (Genocide) মামলার শুনানি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) চলমান রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কিছু দেশ এই মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছে।

যদিও আমেরিকা বারবার ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তবুও বিশ্বজনমত এবং আইনি চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

৫. আমেরিকার ভূমিকা ও বৈশ্বিক ক্ষোভ:

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনার কথা বললেও, তাদের সামরিক সহায়তা বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সমালোচকদের মতে, আমেরিকার আধুনিক অস্ত্র এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়াই ইসরায়েলকে এই “নির্মম হত্যাকাণ্ড” চালিয়ে যেতে সাহস দিচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত মন্তব্য:

ফিলিস্তিনের ওপর এই জুলুম কেবল একটি ভূখণ্ডের লড়াই নয়, বরং এটি বর্তমান বিশ্বের নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। সাধারণ মানুষের প্রার্থনা এবং আন্তর্জাতিক আদালতের বিচার—এই দুইয়ের দিকেই এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে।

(আল্লাহর বিচার)

কোটি কোটি মানুষের শেষ ভরসা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট আমরা  মনে করি পৃথিবীর আদালতে বিচার না পেলেও চূড়ান্ত বিচার আল্লাহর আদালতে নিশ্চিত। যা বড়ই ভয়ঙ্কর। যা আমরা কল্পনাও করতে পারবো না।
ইরানের মুসলমানদের বিজয় হবেই তবে আল্লাহর পরিকল্পনা ভয়ানক।
নব্য ফেরাউন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ধ্বংস সময়ের ব্যপার।

যেমনি আল্লার হুকুমে ফেরাউন ধ্বংস হয়েছিলো। তেমনি করুন পরিনতি অপেক্ষা করছে আমেরিকার সন্ত্রাসী ট্রাম্প ও ইসরায়েলর শয়তান নেতা নিয়া হুর জন্য।
আমিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page