নিজস্ব প্রতিবেদক,
নিজে পরিচয় দিতেন ভূমি অফিসের বড় কর্মকর্তা হিসেবে। কখনো এসিল্যান্ড অফিসের প্রভাবশালী ব্যক্তি, আবার কখনো জমি কেনাবেচার বিশ্বস্ত মাধ্যম। এই পরিচয়ের আড়ালে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার পেশা। অবশেষে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন কুখ্যাত সেই প্রতারক পাঁচদোনা চরপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে মোঃ পাপন মিয়া (২৬)।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) নরসিংদী মডেল থানায় ভুক্তভোগী হাসিব হায়দারের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চিনিশপুর এলাকার বাসিন্দা হাসিব হায়দারের সাথে বিবাদী পাপনের পরিচয় হয় চিনিশপুর ভূমি অফিসে। তখন পাপন সেখানে মাস্টার রোলে কাজ করতেন। সেই পরিচয়ের সূত্রে পাপন গত অক্টোবর ২০২৪-এ হাসিব হায়দারকে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ৩৭ শতাংশ জমি বিক্রির প্রস্তাব দেন।
যেভাবে চলতো প্রতারণা
পাপন নিজেকে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করে হাসিব হায়দারকে আশ্বস্ত করেন যে, জমি রেজিস্ট্রিতে কোনো সমস্যা হবে না। সরল বিশ্বাসে হাসিব হায়দার দফায় দফায় টাকা দিতে থাকেন:
২ ডিসেম্বর ২০২৫: খারিজ বাবদ নগদ ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা।
২০ ডিসেম্বর ২০২৫: পে-অর্ডারের কথা বলে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫: নগদ ৫ লক্ষ টাকা।
১১ মার্চ ২০২৬: জমি খারিজের নাম করে পুনরায় ৫০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে প্রতারক পাপন হাসিব হায়দারের কাছ থেকে সর্বমোট ২১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
জালিয়াতির পর্দা উন্মোচন
প্রতারক পাপন গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীকে একটি দলিল (নং-১৩৭০৪) সম্পাদন করে দেন। কিন্তু হাসিব হায়দার যখন জমির দখল নিতে যান, তখনই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, ওই একই জমি পাপন আগেই অন্য ব্যক্তিদের নামে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দিয়ে রেখেছিলেন। সম্পূর্ণ বিষয়টি গোপন করে ভুয়া দলিলাদির মাধ্যমে তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও পাপনের অতীত
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পাপন একজন পেশাদার প্রতারক ও ভণ্ড। তিনি এর আগেও নিজেকে এসিল্যান্ড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ইতিপূর্বে চিনিশপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মাস্টার রোলে চাকরি করার সময়ও নানা জালিয়াতির অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রতারক পাপন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পেনাল কোডে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হবে ।
এই ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, পাপনের মতো প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত যাতে আর কেউ সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এভাবে আত্মসাৎ করতে না পারে।