নরসিংদী থেকে বাবুল মিয়া
নরসিংদীর মাধবদীসহ আশপাশের এলাকায় খোলাবাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে আমদানিকৃত সুতা ও কাপড়। এর ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে উদ্যোক্তারা, অনেক মিল বন্ধের পথে।
সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত ৬০ ও ৮০ কাউন্টের চায়না কটন সুতা, ৫০ কাউন্টের ভিসকস, ৬০ ও ৮০ কাউন্টের ইন্ডিয়ান কটন সুতা অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাধবদী, নরসিংদী বড়বাজার, শেকেরচর গোপালদী, পুরিন্দা বাজার এলাকায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সারোয়ার হাজী, এইচপি ট্রেডার্সের মালিক পরিতোষ বাবু, , এল আর ট্রেডিংয়ের রব সূত্রধর, সজীব এন্টারপ্রাইজ, আরিফ, সাহাদাৎ হোসে,, মাসুদ ট্রেডার্স, দাস ব্রাদার্স, হক ট্রেডার্স, গোপালদী বাজারে রাজন, কাদের হাজী ও মান্নান হাজী নামের ব্যক্তিরা এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলছে রমরমা বন্ডের সিন্ডিকেট অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব সুতা খোলা বাজারে বিক্রি করা নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা দিনের পর দিন বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পকে সহায়তা করতে বন্ড সুবিধা দিয়ে থাকে। কিন্তু ওই সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল কারখানায় প্রবেশের আগেই চলে যাচ্ছে খোলা বাজারে। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আর দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো পড়ছে বিপাকে।
গত ৯ অক্টোবর ভোরে নরসিংদী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ অভিযান চালিয়ে মাধবদীর গরুরহাট এলাকা থেকে প্রায় ৭৫ হাজার কেজি চায়না সুতা জব্দ করে। কিন্তু অভিযান পরেও ব্যবসা বন্ধ হয়নি কালোবাজারি ব্যবসা ।
বন্ড ব্যবসায়ীদের বক্তব্য
এসপি ট্রেডার্সের মালিক পরিতোষ বাবু বলেন, একাধিক গণমাধ্যমকে জানান
“আমার কোনো বন্ড লাইসেন্স নেই। নারায়ণগঞ্জের সাইফুল ইয়ার্ন ট্রেডিং , সারোয়ার টেটাস থেকে সুতা কিনে বিক্রি করি।”
তিনি আরও জানান, মাধবদীর সারোয়ার হাজী সবচেয়ে বড় বন্ডের ব্যবসায়ী। তার অধীনে একাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে, যার মাধ্যমে সুতাগুলো কালোবাজারে বিক্রি হয়। বাজার কমিটির প্রতিক্রিয়া
মাধবদী মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী বলেন,
“আমাদের বাজারে বন্ডের সুতা বিক্রি না করার জন্য আমরা নিষেধ করেছি। একাধিকবার মাইকিংও করা হয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম ভেঙে কাজ করছে, প্রশাসন চাইলে সহজেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।”
রাজস্ব কর্মকর্তার মন্তব্য
নরসিংদী এনবিআরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, গণমাধ্যমকে জানান
“যারা নীতিভঙ্গ করে বন্ডের সুতা খোলা বাজারে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজস্ব ফাঁকি বা অবৈধ বন্ড ব্যবসা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
অর্থনৈতিক ক্ষতির চিত্র
দেশে বর্তমানে ৪০০-রও বেশি স্পিনিং মিল রয়েছে, যার মধ্যে নরসিংদী অঞ্চলে প্রায় ৭০টির বেশি। খোলাবাজারে বন্ডের সুতা বিক্রির কারণে দেশীয় মিলগুলো লোকসানে যাচ্ছে, অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, “যদি দ্রুত অভিযান ও শুল্ক তদন্ত জোরদার না হয়, তবে দেশীয় সুতা শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি দেশের টেক্সটাইল খাতেও ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।”
বর্তমানে নরসিংদীর মাধবদী ও আশপাশের বাজারগুলো চায়না সুতায় সয়লাব, প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে অবাধ বন্ড ব্যবসা।
দেশের অর্থনীতি ও শিল্পের স্বার্থে এখনই প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারির দরকার
সূত্র: যমুনা টিভি, নিউজ পোর্টাল অপরাধ কন্ঠ , আমাদের সময়, নিখাদ খবর, ইত্তেফাক সহ একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে এই চিত্র উঠে এসেছে ও, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, এবং টেক্সটাইল মালিক কাপড় ব্যবসায়ীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ।