মোঃ রিয়াজ রহমান
শিবচর প্রতিনিধি:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেছেন বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলুর কর্মী-সমর্থকরা। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর এলাকায় এ অবরোধের ঘটনা ঘটে।
অবরোধের কারণে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে নামে। সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে তারা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে মুহূর্তেই উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা “দলীয় মনোনয়ন চাই, অন্যায় সিদ্ধান্ত মানি না” স্লোগান দিতে দিতে বেশ কিছু যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। বিশেষ করে একটি বসুমতি পরিবহন বাসে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের আহ্বান উপেক্ষা করে সড়কে অবস্থান নিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছুটা পিছু হটে যায়।
শিবচর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিক্ষোভকারীরা ছিল অনেক সংখ্যায়। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে আমাদের পক্ষে তখন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
এদিকে হঠাৎ এই অবরোধে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, চালক ও যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। অনেক যাত্রী এক্সপ্রেসওয়ে ঘেঁষে ধানক্ষেত ও বাড়িঘরে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, দ্রুত সেনা বা র্যাব মোতায়েন না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। শিবচর পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন-
এভাবে রাতের বেলায় প্রধান সড়ক অবরোধ হলে মানুষ ভয় পায়। গাড়িতে থাকা শিশু ও নারী যাত্রীরা আতঙ্কে আছে। দ্রুত সেনাবাহিনী নামানো প্রয়োজন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত সাড়ে ৯টার দিকেও সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। বিক্ষোভকারীরা এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন জ্বালিয়ে রাখে। পুলিশ দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
অবরোধ তুলে নিতে প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের করলে
সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী নিজে এসে রাত ১০:৩০ এর দিকে তার সমর্থকদের শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।