আব্দুর রাজ্জাক সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল থানা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, একটি অপহরণ মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) তিনজন আসামি রয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬ খ্রি.) সরাইল থানা পুলিশ কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরাইল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে দেওয়া হলোঃ-
১.রনি মুন্সি (৩৭) (জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি): তিনি আশুগঞ্জ থানার চরচারতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর মুন্সির ছেলে। সরাইল থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬/৭/১০ ধারার একটি মামলায় (মামলা নং- ২৫, তারিখ: ১৮/০৫/২৬ খ্রি.) তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানটি পরিচালনা করেন সরাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ফারুক আহমদ।
২. হৃদয় মিয়া (২৭) (অপহরণ মামলার আসামি): তিনি সরাইল থানার আখিতারা গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩)-এর ৭/৩০ ধারায় সরাইল থানায় দায়েরকৃত একটি অপহরণ মামলায় (মামলা নং- ২২, তারিখ: ১২/০৬/২৬ খ্রি.) তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানটি পরিচালনা করেন এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ইউনুছ মিয়া।
পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্ট) গ্রেফতারকৃত ৩ আসামি:
৩. ইয়াছিন মিয়া (২৫): সরাইল থানার কালিকচ্ছ (দত্ত পাড়া) গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারার একটি সিআর মামলায় (মামলা নং- ৪৭৮/২৬) তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল। তামিলকারী অফিসার ছিলেন এসআই (নিরস্ত্র) ইউনুছ মিয়া।
৪. মোঃ নজরুল ইসলাম (৪০): সরাইল থানার কালিকচ্ছ (নন্দীপাড়া) গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে। যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারার অপর একটি সিআর মামলায় (মামলা নং- ৩৪১/২৬) তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। তাকে গ্রেফতার করেন এসআই (নিরস্ত্র) আলমগীর হোসেন।
৫. দ্বীন ইসলাম: সরাইল থানার বিশ্বুতারা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পেনাল কোডের ৩০২ ধারার (হত্যা মামলা) একটি দায়রা মামলায় (দায়রা নং- ৮৫/১৭, জিআর- ৩৪৯/১৫) তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। তাকে গ্রেফতার করেন এসআই (নিরস্ত্র) আব্দুস সালাম।
সরাইল থানা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।