এস. এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার।।
কক্সবাজারের রামু উপজেলা-র গর্জনিয়া ইউনিয়ন-এ বাবুল চৌধুরীর বাড়ি এলাকা থেকে ঘিলাতলী ফরেস্ট অফিস পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় লাখো মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে তা থেমে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশ খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে কাদাময় পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, এই সড়কটি গর্জনিয়া বাজার থেকে বেলতলি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০/১২ গ্রামের মানুষের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত সিএনজি, রিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় এখন পুরো সড়কটি ধুলাবালি ও খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ডাঃ শাহ আলম বলেন,
“রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন উল্টো দুর্ভোগ বেড়েছে। ধুলাবালির কারণে দোকানে বসা যায় না, আবার ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।”
টমটম চালক নুরুল আলম জানান,
“প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করি। রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রীরাও বিরক্ত হয়ে অন্য পথে চলে যায়।”
স্কুলশিক্ষার্থী আদনান কবির বলেন,
“স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। বৃষ্টি হলে পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যাবে। তখন চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।”
স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন,
“আমাদের উৎপাদিত সবজি ও কৃষিপণ্য বাজারে নিতে এই সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়। রাস্তা খারাপ হওয়ায় পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে অভাবেই কাজটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, সড়কটি সম্পূর্ণ ভাল ছিল, অযথা সড়কটি সংস্কারের দোহাই তুলে খুঁড়াখুঁড়ি করে যান চলাচল অনুপযোগী করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকার এ সড়ক উন্নয়নে কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কেন তার সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ?
সচেতন মহলের মতে, সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ না হলে বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা অবিলম্বে কাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য হচ্ছে, বিষয়টির গূরুত্ব বিবেচনা করে সড়কের কাজ পূনরায় শুরু করতে ঠিকাদার কে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়ক সংস্কার কাজ পুনরায় চালু করে বর্ষার আগেই সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, রামু উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।