কায়সার জুয়েল
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকা থেকে অপহৃত তিন কিশোর ও দুই যুবককে দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে জীবিত উদ্ধার করেছে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ। টেকনাফ সদরের রাজারছড়া পাহাড়ি এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে অপহৃতদের নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহৃতদের অবস্থান সম্পর্কে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং এসআই মোরশেদ আলম-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতিকূল পরিবেশ এবং নানা ঝুঁকি উপেক্ষা করে পুলিশ সদস্যরা রাজারছড়া পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অপহৃত পাঁচজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধারকৃতদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটায় পরিবারগুলো টেকনাফ মডেল থানার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং অভিযানে নেতৃত্বদানকারী এসআই মোরশেদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, মাদক, মানবপাচার ও পাহাড়কেন্দ্রিক অপরাধ দমনে টেকনাফ থানা পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আস্থা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এসআই মোরশেদ আলম তাঁর দায়িত্বশীলতা, সাহসিকতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সফলতার কারণে ইতোমধ্যে জনমহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।
জানা গেছে, এর আগেও এসআই মোরশেদ আলম একাধিক অপহরণকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদেরকে জীবিত উদ্ধার, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য এবং ডাকাতদের গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অপরাধ দমনে তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য টেকনাফসহ কক্সবাজার জেলায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) টেকনাফ উপজেলা শাখার সভাপতি এস এন কায়সার জুয়েল এবং স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপহরণ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআই মোরশেদের মতো সাহসী, দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতো কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অপরাধীরা আইনের প্রতি ভীত থাকবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি টেকনাফের পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, টেকনাফ মডেল থানার এ ধরনের সাহসী ও সফল অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অপহরণ, মানবপাচার, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।