কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপে রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ের আড়ালে ভয়ংকর এক ডাকাত চক্রের আবির্ভাব ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতার প্রভাব ও রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে পুঁজি করে বেপরোয়া হয়ে ওঠা এই চক্রটি এলাকায় এক ধরনের অঘোষিত সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সংঘবদ্ধ এ চক্রটি নিরীহ মানুষদের নানা কৌশলে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার আতঙ্ক দেখিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে। একইসঙ্গে মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারি, মানবপাচারকারী ও বিভিন্ন অপরাধী সিন্ডিকেটকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এসব দুর্বৃত্ত দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই ভুক্তভোগীদের হুমকি, মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, শাহপরীর দ্বীপের সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। কারণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বললেই শুরু হয় ভয়ভীতি ও হয়রানি। ফলে অনেক ভুক্তভোগী নীরবে সবকিছু সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শাহপরীর দ্বীপের একাধিক সচেতন নাগরিক জানান, সীমান্তবর্তী এই এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার চক্র সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে সমাজে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় এনে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় মানবপাচার, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শাহপরীর দ্বীপের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।