নিজস্ব প্রতিবেদক, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় এক এনজিও কর্মী দম্পতির ওপর সশস্ত্র হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পূর্বপরিকল্পিত এই হামলায় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী এনজিও কর্মী মাসুদ আলম (২৫) ও তার স্ত্রী রিতা আক্তার (২০) মোটরসাইকেলে করে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে নিজ অফিসে ফেরার পথে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় সুলমান মিয়া (৩২)-এর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে রিতা আক্তারের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে ফেলা হয়। এরপর শুরু হয় নির্যাতন।
মাসুদ আলমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। একই সময়ে রিতা আক্তারকে চুল ও কাপড় ধরে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং তার শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে তার ডান হাতে আঘাত করা হয়।
এ সময় হামলাকারীরা এনজিওর সংগ্রহকৃত নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি রিতা আক্তারের গলায় থাকা প্রায় ১৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও লুট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় তারা পুনরায় হামলার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাদেরকেও গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে এবং তারা ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর লোকাল বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) ভৈরব শাখার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী মাসুদ আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে এ ধরনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর মতে, এমন নৃশংস ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন সকলের দৃষ্টি প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকে।