মোঃ রিয়াজ রহমান
শিবচর প্রতিনিধি
শিবচরের তিন যুবকের জন্য বাড়ির প্রতিটি উঠোন এখন কান্নায় ভাসছে। আলমাছ, সজিব ও সবুজ-তিনজনেই স্বপ্ন দেখেছিল ইতালিতে পৌঁছে পরিবারের ভাগ্য বদলে দেবেন। দালালচক্র আশ্বাস দিয়েছিল, “কয়েক দিনের মধ্যেই ইতালিতে পৌঁছে যাবে।”
কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ দুঃসহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
লিবিয়ার মরুভূমির এক অন্ধকার গোপন ঘরে হাত-পা-মুখ বেঁধে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভয়ংকর ভিডিওতে দেখা যায়-নিষ্ঠুরভাবে পেটানো হচ্ছে তিনজনকে, নেই খাবার, নেই পানি; অসহায় চোখে তারা শুধু বলছে-মা, বাঁচাও… আমাদের বাঁচায়া নাও।
প্রতিদিন পরিবারের ফোনে আসছে নির্যাতনের ভিডিও। সঙ্গে দালালচক্রের ভয়ংকর বার্তা- ৬০ লাখ টাকা পাঠান, না হলে লাশ পাঠানো হবে।
এই কথা শুনে আলমাছের মা বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন। সজিবের বাবা চোখের পানি লুকিয়ে বলেন-
টাকা দিলে বাঁচত, কিন্তু এত টাকা কোথা থেকে আনমু?
সবুজের ছোট ভাই অসহায় কণ্ঠে শুধু বলেছে- ভাইরে মারার আগে যদি কিছু করতে পারতাম
তিনটি পরিবারই নিম্নবিত্ত একজন কৃষকের, একজন দিনমজুরের, আরেকজন প্রবাসীর ভাঙাচোরা ঘর।
৬০ লাখ টাকা তাদের জীবনে শুধু কল্পনা। তবু কেউ গয়না বিক্রি করার চেষ্টা করছেন, কেউ জমি বন্ধক রাখতে দৌড়াচ্ছেন।তাদের চোখে একটাই স্বপ্ন ছেলেদের জীবিত ফিরে পাওয়া।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি শুধু প্রতারণা নয়, এক ভয়াবহ মানবপাচার।তাদের দাবি এই দালালচক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শিবচর থানার ওসি মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান- ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জন দালালকে আটক করা হয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
গ্রামবাসীরা প্রতিদিন ভিড় করছেন তিনটি বাড়িতে। সবার মুখে একই প্রশ্ন ওরা কি বাঁচবে?
আলমাছের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন-“ছেলেটারে নিয়া আর স্বপ্ন দেখি না, শুধু বাঁচলেই হইল।
সবুজের বোন নিভৃতে একটাই অনুরোধ-
ভাইরে একবার বাসায় ফিরাইনা দেন।
জীবন বদলের আশায় পথচলা তিন যুবকের জীবন এখন ঝুলে আছে লিবিয়ার মরুভূমির অমানবিক বন্দিদশায়। তাদের পরিবার শুধু কান্না আর অপেক্ষায়-কবে ফিরবে আমাদের ছেলেরা?